
নিজস্ব প্রতিবেদক || বিসিএন চ্যানেল অনলাইন ডেস্ক
ফরিদপুরে পিস্তল ঠেকিয়ে গৃহবধূর কানের দুল ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূলহোতা ও ডাকাতি, খুন, চুরি, মাদকসহ মোট ১০টি মামলার আসামি মোঃ শরীফুল ইসলাম ওরফে ডন শরীফ (৩৮) এবং তার সহযোগী মোঃ রায়হান মোল্লা (২৫)-কে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব-১০, সিপিসি–৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৫) ফরিদপুর জেলার সালথা থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মূল আসামি ডন শরীফ ও তার সহযোগী রায়হান মোল্লাকে গ্রেফতার করে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত খেলনা পিস্তল, সুইচ গিয়ার, ক্ষুর, কেচি, পাবনা জেলা হতে চুরিকৃত মোটরসাইকেল এবং ১.৫০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
পরে আসামিদের দেওয়া তথ্যমতে ১ নভেম্বর সকালে র্যাব-৬ এর সহায়তায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের হরিণটানা থানা এলাকা থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ ভোরে ফরিদপুর শহরের উত্তর শোভারামপুর এলাকায় গৃহবধূ মঞ্জু রানী দাস (৩৫) এর কাছ থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে কানের দুল ছিনিয়ে নেয় দুই ছিনতাইকারী।
ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় মামলা নং–৬৫, তারিখ–২২/১০/২০২৫, ধারা–৩৯২ দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়।
ঘটনার পর র্যাব-১০ এর একটি দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং সোর্সের তথ্য যাচাই করে তারা আসামিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
এরপর একাধিক অভিযান চালিয়ে অবশেষে মূলহোতা ডন শরীফ এবং সহযোগী রায়হান মোল্লা-কে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত শরীফুল ইসলাম ওরফে ডন শরীফ (৩৮) দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর শহর ও আশপাশ এলাকায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে স্বর্ণালংকার, চেইন ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে আসছিল।
তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, খুন, চুরি ও মাদকসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে।
তিনি ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরের ঝিলটুলী এলাকায় সংঘটিত স্টাফ নার্স অরুণিমা ভৌমিক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন। ওই ঘটনায় ছিনতাইয়ের সময় হামলার শিকার হয়ে অরুণিমা ভৌমিক নিহত হন।
এছাড়া, ২০২৫ সালের আগস্টে পাবনার এডওয়ার্ড কলেজ এলাকায় মোটরসাইকেল ক্রয়ের নামে প্রতারণা করে এক যুবকের কাছ থেকে ইয়ামাহা আর–১৫ মোটরসাইকেল চুরি করে পালিয়ে যান তিনি।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা ভোরবেলা বা রাতের শেষ প্রহরে পথচারীদের টার্গেট করে মোটরসাইকেলে দ্রুত পালিয়ে যেতো, যাতে শনাক্ত করা না যায়। তারা স্থানীয়ভাবে মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সাথেও জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
র্যাব–১০ বলেছে—
“র্যাব সর্বদা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস, ছিনতাই, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বদ্ধপরিকর। জনগণের সহযোগিতা ও তথ্য প্রদানই র্যাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করছে।
র্যাব বিশ্বাস করে— জনগণের নিরাপত্তাই র্যাবের অঙ্গীকার।”